PRSTU


অবকাঠামো, পড়াশোনার পরিবেশ আর শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাই প্রধান অগ্রাধিকার - অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল ইসলাম, উপাচার্য, পিবিপ্রবি

https://static.bonikbarta.com/images/BONIK-BARTA-LOGO-Bn_DRbmlmf.format-pngoriginal.png


https://bonikbarta.com/common-room/GzS8ms06vPPtCnnt

প্রকাশ: সোমবার ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:০০

২০২২ সালের ১৩ এপ্রিল প্রতিষ্ঠিত হয় পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে পিরোজপুর শহরের বাইপাস সড়কে ভাড়া করা ভবনে অস্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। নবীন এ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম, প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ, স্থায়ী ক্যাম্পাসের অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল ইসলাম

বর্তমানে অস্থায়ী ক্যাম্পাসে কার্যক্রম চলছে। শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে কী ধরনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হচ্ছেন?

বর্তমানে আমরা তিনটি ভাড়া করা ভবনে কার্যক্রম পরিচালনা করছি। ভাড়া করা বাড়ি হওয়ায় চাইলেই আমরা নিজেদের মতো করে অবকাঠামোগত পরিবর্তন করতে পারি না। বাসাবাড়ির নকশায় রুমের মাঝে পিলার থাকে, যা শ্রেণীকক্ষ হিসেবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। বড় ক্লাসরুমে এটি একটি বড় সমস্যা। এছাড়া ভবনগুলো একদম রাস্তার পাশে হওয়ায় শব্দদূষণ ও শিক্ষার্থীদের চলাচলের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হয়। তবে আশার কথা হলো আমাদের স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য নির্ধারিত জায়গাটি রাস্তা থেকে কিছুটা ভেতরে, তাই ভবিষ্যতে সেখানে এ সমস্যাগুলো থাকবে না।

স্থায়ী ক্যাম্পাসের জমি অধিগ্রহণ ও অন্যান্য কাজের অগ্রগতি কতটুকু?

স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য পিরোজপুরের কদমতলা ও ব্রাহ্মণকাঠি মৌজায় ৭৫ একর জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে সরকারি আদেশ (জিও) জারি হয়েছে। ২০২৩ সালের ২ এপ্রিল আমরা প্রশাসনিক অনুমোদন এবং একই বছরের ৩০ জুলাই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র পেয়েছি।

সবচেয়ে বড় অগ্রগতি হলো জমি অধিগ্রহণ ও স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের লক্ষ্যে ২০২৫ সালের ৩০ জুন শিক্ষা মন্ত্রণালয় ‘ফিজিবিলিটি স্টাডি’ বা সম্ভাব্যতা যাচাই প্রকল্প অনুমোদন করেছে। বর্তমানে এ স্টাডি বাস্তবায়ন ও মাস্টারপ্ল্যান তৈরির জন্য প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান। এ প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। আশা করছি, এ প্রক্রিয়াগুলো শেষ হলে আমরা দ্রুত দৃশ্যমান অবকাঠামো উন্নয়নের দিকে যেতে পারব।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ল্যাবরেটরি বা গবেষণাগারের কী ব্যবস্থা নিয়েছেন?

আমাদের বর্তমানে চারটি বিভাগ চালু রয়েছে—কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই), গণিত, পরিসংখ্যান ও মনোবিজ্ঞান। শিক্ষার্থীদের জন্য আমরা প্রায় ৪০টি কম্পিউটার সমৃদ্ধ একটি ল্যাব তৈরি করেছি। এছাড়া মনোবিজ্ঞান বিভাগের জন্যও একটি অস্থায়ী ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। বর্তমানে আমাদের দুটি ল্যাব এবং চারটি ক্লাসরুম সচল আছে, যা দিয়ে আপাতত কার্যক্রম চালিয়ে নেয়া হচ্ছে।

নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণত শিক্ষক ও আবাসন সংকট থাকে। এ সমস্যা সমাধানে কী উদ্যোগ নেয়া হয়েছে?

আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৬ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। আমি যখন ২০২৪ সালের অক্টোবরে যোগদান করি, সেদিনই ক্লাস শুরু হয়েছিল। আমাদের বর্তমান ক্লাস লোড অনুযায়ী এ শিক্ষকরাই ক্লাস নিতে পারছেন। তবে মাইনর সাবজেক্ট, যেমন ফিজিক্স, ইংলিশ, অ্যাকাউন্টিংয়ের জন্য আমরা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছি।

আবাসন প্রসঙ্গে বলতে গেলে বর্তমানে আমাদের ২২৭ জন ছাত্র ও ৯৩ জন ছাত্রী রয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে আমরা ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য পৃথক দুটি অস্থায়ী হলের ব্যবস্থা করেছি। মেয়েদের জন্য পিরোজপুর মহিলা কলেজের হোস্টেলে প্রায় ৩৫-৪০ জন ছাত্রীর থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আর ছাত্রদের জন্য আমরা আলাদা একটি বাড়ি ভাড়া নিয়েছি, যেখানে ৫০-৫৫ জন ছাত্র থাকছে। বিশেষ করে দেশের দূর-দূরান্ত, যেমন রংপুর, দিনাজপুর, রাঙ্গামাটি থেকে আসা ছাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি আমি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছি।

উপকূলীয় অঞ্চলের ভৌগোলিক গুরুত্ব বিবেচনা করে বিশেষ কোনো বিভাগ বা গবেষণা কেন্দ্র খোলার পরিকল্পনা আছে কি?

আমি নতুন তিনটি বিষয় খোলার প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছি। বিষয়গুলো হলো সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ফায়ার সেফটি, ওশেনোগ্রাফি এবং ডিজাস্টার অ্যান্ড কোস্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং। যেহেতু পিরোজপুর একটি উপকূলীয় জেলা, তাই সমুদ্রবিজ্ঞান ও দুর্যোগ মোকাবেলায় ফায়ার সেফটির মতো বিষয়গুলো এখানে খুবই প্রাসঙ্গিক। বিশেষ করে ফায়ার সেফটি বিষয়টি জাপানের কারিকুলামের আদলে সাজানোর পরিকল্পনা আছে।

নতুন এই বিশ্ববিদ্যালয়টিকে একটি মডেল বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ইউজিসি বা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে বিশেষ কোনো প্রত্যাশা আছে কি?

আমার প্রত্যাশা হলো আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে প্রশাসনিক কাজে গতি আনা। যেমন একজন দারোয়ান বা সুইপার নিয়োগ দিতেও যদি চ্যান্সেলরের অনুমোদন এবং দীর্ঘ সময় (আট-নয় মাস) অপেক্ষা করতে হয়, তবে বিশ্ববিদ্যালয় চালানো কঠিন। ছোট পদের নিয়োগ বিশ্ববিদ্যালয়ের হাতে ছেড়ে দেয়া উচিত। এছাড়া আমাদের গবেষণা ফান্ড খুবই নগণ্য (মাত্র ৫ লাখ টাকা), যা দিয়ে মানসম্মত গবেষণা সম্ভব নয়। শিক্ষকদের ধরে রাখতে হলে এবং গবেষণার পরিবেশ তৈরি করতে হলে গবেষণা বাজেট বাড়ানো জরুরি।

এ বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আপনার ভিশন কী?

অবকাঠামোর সঙ্গে আমি গুরুত্ব দিচ্ছি শিক্ষার পরিবেশের ওপর। আমার লক্ষ্য হলো ৫০ বছরের একটি একাডেমিক মাস্টারপ্ল্যান তৈরি ও তা বাস্তবায়ন করা। আমাদের শিক্ষার্থীরা যেন অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারে, সেভাবে তাদের গড়ে তোলা হচ্ছে। এরই মধ্যে আমাদের শিক্ষার্থীরা মালয়েশিয়ায় ইয়ুথ কনফারেন্স, গণিত অলিম্পিয়াড, প্রোগ্রামিং কনটেস্টসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে। আমি চাই, অস্থায়ী ক্যাম্পাস হলেও শিক্ষার্থীরা যেন কোনো কিছু থেকেই বঞ্চিত না হয় এবং একটি স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এটি গড়ে ওঠে।